|
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সম্মিলিত দায়িত্ব
এস এম আওলাদ হোসেন।
|
|
এস এম আওলাদ হোসেন,
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নয়, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও বটে। একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার মূলত দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা বহন করে। তাই নির্বাচনের পর সেই ইশতেহার বাস্তবায়ন সরকার ও দল—উভয়ের জন্যই একটি বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন—এটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কারণ সরকার একা কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি সফল করতে পারে না; মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টাই জনগণের কাছে সরকারের অঙ্গীকার পৌঁছে দিতে পারে।
দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জনগণের সমস্যা তুলে ধরা, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করা, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাও তাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও জনসেবার মান নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইশতেহার বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় দলীয় কোন্দল, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও তোষণনীতি। যদি নেতাকর্মীরা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন, তবে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
জনগণ এখন শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। তাই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন, সেটি কেবল দলীয় দায়িত্ব নয়—বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের একটি সম্মিলিত অঙ্গীকার।
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
01637654471
|
