|
করোনার কারণে এবারও ঈদ জামাত হবে না শোলাকিয়ায়
শারমিন আক্তার
|
|
করোনা মহামারির ছোবলে এবারও মুসল্লিশূন্য থাকছে উপ-মহাদেশের বৃহত্তম আর দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া। প্রায় পৌনে ৩০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো ঈদের দিনও নির্জন থাকবে দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদগাহ ময়দান। গত বছরের আগে এমন নির্জনতা কেউ দেখেনি। করোনা মহামারির কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের মতো এবারও ঈদগাহ কিংবা খোলা মাঠে ঈদের জামাত পড়া যাবে না। তাই সরকারি নির্দেশ পেয়ে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি সভা করে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত না করার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার বিকেলে (৯ মে) ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সোমবার (১০ মে) ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশাল প্রান্তরে সব মুসল্লি যাতে নামাজ শুরুর মুহূর্তটি জানতে পারেন, সেজন্য নামাজ শুরুর আগে বেশ কয়েকবার বন্দুকের গুলি ছোড়া হয়। সবশেষে জামাত শুরুর এক মিনিট আগে গুলি ছুড়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপশালী বীর ঈশা খাঁর ১৬তম বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহটি ওয়াকফ করেন। তারও দুশ বছর আগে থেকে শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ আছে ওই ওয়াকফ দলিলে। ১৮২৮ সালে ঈদুল ফিতরের বড় জামাতে এ মাঠে প্রথম ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। ওই হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ নিহত হন বেশ কয়েকজন। তবু থেমে থাকেনি ঈদের জামাত। তবে এই প্রথমবারের মতো ঈদের দিনও নীরব থাকছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া। |
