এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের অবাধ মতপ্রকাশ ও স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। তবে শুধু ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেই একটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয় না; তার আগে যে নির্বাচনী প্রচারণা চলে, সেটি যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
নির্বাচনী প্রচারণা হলো ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের চিনে নেওয়ার, তাদের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক দর্শন জানার সুযোগ। এই প্রচারণা যদি ভয়ভীতি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, হামলা-মামলা, সভা-সমাবেশে বাধা কিংবা মিডিয়ার অসম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, তাহলে ভোটাররা প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে করে নির্বাচন কাগজে-কলমে হলেও বাস্তবে তা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।
অবাধ প্রচারণা মানে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কোনো দলকে সভা করতে দেওয়া হবে, আর কোনো দলকে দেওয়া হবে না—এমন বৈষম্য কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে না। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা, কারো পক্ষ নেওয়া নয়। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধ্বংস করে দেয়।
সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রচারণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে না দেখা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির সৌন্দর্য। অথচ বাস্তবতায় দেখা যায়, নির্বাচনের সময় সহিংসতা, চরিত্রহনন, অপপ্রচার ও হুমকি-ধামকি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। এসব প্রবণতা বন্ধ না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইন-কানুন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেগুলোর কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব রয়েছে সত্য তুলে ধরা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা।
সবশেষে বলা যায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী প্রচারণা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগের মাঠ যদি অসম ও ভয়মুক্ত না হয়, তবে ভোটের দিন ব্যালট বাক্স যতই সুরক্ষিত থাকুক, সেই নির্বাচন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে প্রচারণার মাঠ থেকেই ন্যায়, সমতা ও নিরপেক্ষতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে—এটাই সময়ের দাবি।
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
01637654471