|
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা: জনমতের ভিত্তিতেই হোক অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত
এস এম আওলাদ হোসেন।
|
|
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলস্বরূপ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এলাকার উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে উপজেলা পরিষদ, প্রশাসনিক ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোথায় স্থাপিত হবে— এ বিষয়ে আবেগ, পক্ষপাত বা কোনো একক গোষ্ঠীর দাবির পরিবর্তে জনমত, বাস্তবতা ও সরকারি নীতিমালাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি ইউনিয়নের কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তির অযৌক্তিক দাবি পুরো উপজেলার জনগণের মতামতের প্রতিফলন হতে পারে না।
উপজেলার সকল ইউনিয়নের মানুষের স্বার্থ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে যেমন বিতর্ক এড়ানো যাবে, তেমনি জনগণের আস্থাও সুদৃঢ় হবে।
মনে রাখতে হবে, উন্নয়নমূলক সরকারি কার্যক্রমে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা প্রশাসনিক কাজে বাধা প্রদান কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই শৃঙ্খলা, যুক্তি ও আইনের সীমারেখার মধ্যে হতে হবে।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে বিভেদ নয়, প্রয়োজন ঐক্য; ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা। জনমতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তই হবে টেকসই, গ্রহণযোগ্য এবং উন্নয়নবান্ধব সিদ্ধান্ত।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা— সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করে ন্যায়সঙ্গত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলাকে একটি আধুনিক ও কার্যকর প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
01637654471
|
