এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
নির্বাচনের দিন রাষ্ট্রের প্রয়োজনে হাজার হাজার বেসরকারি যানবাহন রিকুইজিশন করা হয়। এসব গাড়ির চালকেরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু বিস্ময়কর ও দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই চালকেরাই কার্যত নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
ভোটাধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। অথচ নির্বাচন বাস্তবায়নে যারা সরাসরি মাঠে কাজ করেন, তাদেরই ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকা এক ধরনের নীরব অধিকার হরণ। প্রশাসনিক দায়িত্বের অজুহাতে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এ বিষয়ে উদাসীনতা উদ্বেগজনক। রিকুইজিশনকৃত গাড়ির চালকদের জন্য আগাম ভোট, দায়িত্ব শেষে ভোট দেওয়ার সুযোগ কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল এবং এখনো আছে। কিন্তু সে উদ্যোগের অভাব স্পষ্টভাবে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতারই প্রতিফলন।
গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা শোনা যায়—কিন্তু বাস্তবে যারা নির্বাচন সচল রাখতে ঘাম ঝরান, তারাই ভোট দিতে না পারলে সেই নির্বাচন কতটা ন্যায়সঙ্গত, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
রিকুইজিশনকৃত গাড়ির চালকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক সংস্কার নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পরীক্ষা। এই অবহেলা চলতে থাকলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে—যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
01637654471