|
সত্য কি মরে গেছে ?
এস এম আওলাদ হোসেন।
|
|
এস এম আওলাদ হোসেন।।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
সত্য একটি ছোট শব্দ, কিন্তু এর শক্তি অসীম। সমাজ, রাষ্ট্র, বিচার এবং সাংবাদিকতার মূল ভিত্তিই হলো সত্য। অথচ আজকের বাস্তবতায় মনে হয়, সত্য যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে স্বার্থ, প্রভাব এবং প্রচারণার কোলাহলে।
সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন ঘটনা ও ইস্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং জনপরিসরে যে আলোচনা চলছে, সেখানে সত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পক্ষ নেওয়ার প্রতিযোগিতা। কেউ ব্যক্তি স্বার্থে, কেউ রাজনৈতিক সুবিধার জন্য, আবার কেউ ভাইরাল হওয়ার আশায় ঘটনাকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করছেন। ফলে প্রকৃত সত্য কোথায়, সেটি খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ অনেকেই তথ্য যাচাইয়ের আগে অবস্থান নির্ধারণ করে ফেলেন। এরপর শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারণা। এক পক্ষ নিজেদের সুবিধামতো তথ্য তুলে ধরে, অন্য পক্ষও একই পথে হাঁটে। এই প্রতিযোগিতার মাঝখানে হারিয়ে যায় নিরপেক্ষতা, হারিয়ে যায় সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা।
বিশেষ করে সাংবাদিকতা পেশায় সত্যের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। একজন সাংবাদিকের প্রথম দায়িত্ব হলো সত্য উদঘাটন করা। কিন্তু যখন সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে প্রভাব বিস্তার, জনপ্রিয়তা অর্জন কিংবা ব্যক্তিগত লাভের বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে, তখন সত্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজও বিভ্রান্ত হয়।
তবে প্রশ্ন হলো—সত্য কি সত্যিই মরে গেছে? না, সত্য কখনো মরে না। সত্যকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য চাপা দেওয়া যায়, বিকৃত করা যায়, আড়াল করা যায়; কিন্তু তাকে চিরদিন লুকিয়ে রাখা যায় না। ইতিহাস সাক্ষী, শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রকাশিত হয়েছে এবং মিথ্যা পরাজিত হয়েছে।
আজ আমাদের প্রয়োজন আত্মসমালোচনা।
ব্যক্তি, সমাজ ও গণমাধ্যম—সবার উচিত সত্যকে নিজের সুবিধার মাপকাঠিতে না দেখে সত্য হিসেবে গ্রহণ করা। কারণ কোনো সমাজে যদি সত্যের মূল্য কমে যায়, তবে সেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়।
সত্য মরে যায়নি; বরং আমরা অনেকেই সত্য থেকে দূরে সরে গেছি। তাই সময়ের দাবি হলো—ভাইরাল হওয়ার নয়, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিযোগিতায় নামা। কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই টিকে থাকে, আর বাকিটা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়।
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
01637654471
|
