|
একাধিক পদে এক ব্যক্তি: আইন, নৈতিকতা ও সাংবাদিকতার প্রশ্ন
এস এম আওলাদ হোসেন
|
|
এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
একই ব্যক্তি একযোগে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতা—এমন বাস্তবতা ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে আসছে। বিষয়টি ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; এটি আইন, নীতিমালা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে একজন ব্যক্তি একই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হতে পারেন—এতে আইনগত বাধা নেই। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একটি পূর্ণকালীন ও সরকারি অনুদাননির্ভর দায়িত্ব।
এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পদে থেকে অন্য কোনো লাভজনক পেশা বা এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা নিষিদ্ধ, যা মূল দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটায়। দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক বা প্রকাশকের দায়িত্ব কোনোভাবেই খণ্ডকালীন বা পার্শ্ব পেশা হিসেবে বিবেচ্য নয়।
অন্যদিকে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব মানে কেবল একটি পদ নয়; এটি পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব। যখন কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অনুদানভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতা হন, তখন স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা অনিবার্য হয়ে ওঠে। এতে সংগঠনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই স্তম্ভের শক্তি নির্ভর করে স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। একাধিক ক্ষমতাশালী পদ যখন এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন সেই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠান, পেশা এবং শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থ।
এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সমাজের উচিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে পর্যালোচনা করা। আইন ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ডও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান ও পেশার স্বার্থই এখানে সর্বাগ্রে বিবেচ্য হওয়া প্রয়োজন।
এস এম আওলাদ হোসেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
|
