পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি/
মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপির দুই উপজেলা ও পৌর শাখার কমিটি বিলুপ্ত হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুনের পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছেন দুই উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা। দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তারা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনের পক্ষেই মাঠে থাকবেন এবং তাকেই বিজয়ী করে ঘরে ফিরবেন। শেষ পর্যন্ত হাসান মামুনেই আস্থা দলীয় নেতাকর্মীদের। কোন অবস্থাই নুরএর পক্ষে কাজ করবেন না তারা।
পটুয়াখালী-১ আসনে চারটি ইউনিট কমিটি স্থগিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় বিএনপি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পটুয়াখালী-৩ আসনের গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা শাখা ও গলাচিপা পৌর শাখা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সকালে দুই উপজেলা ও বিকালে গলাচিপা পৌর শাখার কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়।বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে পাঠানো হয়। বিকেলে রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে গলাচিপা পৌর শাখার কমিটি বিলুপ্তি কর আরো একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা ও গলাচিপা পৌর শাখার বিএনপির বিদ্যমান কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। চিঠির অনুলিপি বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের পরপরই দুই উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান আরও জোরালো করবেন বলে জানান অনেকে। ইতোমধ্যে দশমিনা উপজেলায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকার শপথ গ্রহণ করেন। বুধবার বিকেলে দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের নেহালগঞ্জ বাজার এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম শানু এই শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শপথের ভিডিও ও ছবি পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শপথবাক্যে মো. শাহ আলম শানু বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের জনগণের স্বার্থে তারা হাসান মামুনের পক্ষে রয়েছেন এবং এই নির্বাচনে তার পাশেই থাকবেন। কোনো চাপ বা প্রলোভনে তারা অবস্থান বদলাবেন না বলেও শপথে উল্লেখ করা হয়।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার হাওলাদার কমিটি বিলুপ্তির চিঠি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু এতে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হবে না। তারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরও আগে এলে তারা আরও আগে থেকেই সব দল-মতের মানুষকে নিয়ে হাসান মামুনের পক্ষে জোরালোভাবে মাঠে নামতে পারতেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামায় তাদের বিরুদ্ধে এই সাংবাদিক ব্যবস্থা নেওয়ায় ভোটের মাঠ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এর প্রমাণ আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে মিলবে বলেও তারা দাবি করেন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চিঠি পাওয়ার কথা জানান তিনি। কমিটি বিলুপ্ত হলেও সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এতে কোনো লাভ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,তা কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রার্থীই ভালো বলতে পারবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নূরকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা দেখিয়ে গলাচিপা ও দশমিনার একাংশ বিএনপি নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় না থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন আগেই প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জেনেই তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং সেই বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীদের দিয়েই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ১১৮