|
কলাপাড়ায় মেগা প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ক ২ বছরের গনগবেষনার ফলাফল প্রকাশ ও আলোচনা সভা।
মোয়াজ্জেম হোসেন
|
|
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী ইউনিয়নের পরিবেশগত আর্থ-সামাজিক জীবন যাত্রার উপর মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন গণগবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প নির্মানের কারনে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বেসরকারী সংস্থা প্রান্তজনের আয়োজনে স্থানীয় মানুষের ২ বছরের গনগবেষনার পর এমন তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। সোমবার(০৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে(পায়রা) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রান্তজনের বাস্তবায়নে এবং একশন এইডের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ গবেষক ও কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মাননুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাং মং, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা,পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পরিবেশ বিভাগ মো.আরিফুর রহমান, গণগবেষক মেহেদী হাসান ও হালিমা আয়শা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.মোকসেদুল আলম, ডা.সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মেডিকেল অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো.জহিরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক অমল মুখার্জি, কলাপাড়া পৌর শহর ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো.রাসেল, কলাপাড়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মীগণ, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ধানখালীর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে ১৫ জন গণগবেষকদের সন্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরিবেশ কর্মী মো.নজরুল ইসলাম এবং প্রান্তজনের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ’র সঞ্চালনায় গণগবেষনার ফলাফল উপস্থাপন করেন একশন এইডের সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার মার্জিয়া জাহান। গবেষনার ফলাফল প্রকাশে বলা হয, ধানখালীতে কয়েকটি অপরিকল্পিত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প (তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র) নির্মাণের পর স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় নজিরবিহীন পরিবর্তন দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে ‘প্রান্তজন’-এর উদ্যোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমানের সহযোগিতায় ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে ওই এলাকায় একটি গণগবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় উঠে আসে, স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক স্বচ্ছলতার অবনতি, ক্রমবর্ধমান সামাজিক সংকট, চিরায়ত পেশার বিলুপ্তি, পরিবেশগত বিপর্যয়, সুপেয় পানির সংকট, বিশুদ্ধ বায়ুর অভাব, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের ক্ষয়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয়, জনস্বাস্থ্য সংকট, বহুমাত্রিক রোগব্যাধির বিস্তার, নারীদের ওপর লিঙ্গভিত্তিক বিরূপ প্রভাব এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতিসহ নানা নেতিবাচক দিক। গবেষণায় বিষাক্ত কয়লা বর্জ্য ও ফ্লাই অ্যাশের বিস্তার বন্ধ, বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মোট পাঁচটি সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
##
মোয়াজ্জেম হোসেন
কলাপাড়া
|
